
নজরে বদ ও রু ক্বিয়াহর কুরআন ভিত্তিক চিকিৎসা
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বদনজর সত্য। হিংসুক ও কুনজরের চোখ থেকে বাঁচতে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসে বর্ণিত মাসনুন রুকইয়াহ অত্যন্ত কার্যকর।
১. বদনজর (Evil Eye) এর বাস্তবতা
কারো সৌন্দর্য, নিয়ামত বা অগ্রগতি দেখে অনিচ্ছাকৃত বা হিংসাত্মক দৃষ্টি দেওয়াকে বদনজর বলে। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
আমি কুরআনে এমন বিষয় অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।
— সুরা আল-ইসরা, আয়াত ৮২
২. রুকইয়াহ শারইয়্যাহর শর্তাবলি
ইসলামে শিফা অর্জনের জন্য রুকইয়াহ করার ক্ষেত্রে ৩টি মূল শর্ত মেনে চলতে হয়:
৩. প্রয়োজনীয় কুরআনি আয়াতসমূহ
সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সুরা আল-ইখলাস, সুরা আল-ফালাক এবং সুরা আন-নাস ৩ বার করে পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা ও শরীরে মুছে দেওয়া অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
সতর্কতা: কবিরাজি, তাবিজ-তুমার বা শির্কযুক্ত মন্ত্র ব্যবহার করা কড়াকড়িভাবে হারাম। কেবল কুরআন ও সহীহ দোয়ার ওপর ভরসা রাখুন।
৪. দৈনন্দিন আত্মরক্ষার মাসনুন আমল
সকাল ও সন্ধ্যার জিকির, ঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দোয়া পাঠ করা এবং বাচ্চাদের ওপর সুরা ফালাক-নাস পড়ে ফুঁ দেওয়া সুন্নত।
পরিশেষে
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে শয়তানের চক্রান্ত ও হিংসুকদের বদনজর থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
নুসরাত জাহান
কুরআন ও হাদিসের আল-মেডিসিন ও রু ক্বিয়াহ বিষয়ে ১০ বছরের বেশি গবেষণার অভিজ্ঞতা।