
তাজবীদের ১০টি মূল নিয়ম যা প্রতিটি কুরআন শিক্ষার্থীর জানা উচিত
কুরআন মাজীদ হলো আল্লাহ তাআলার পবিত্র কালাম। এই পবিত্র গ্রন্থ সঠিকভাবে তিলাওয়াত করার জন্য তাজবীদ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাজবীদ ছাড়া কুরআন পড়লে অর্থের পরিবর্তন হতে পারে, যা কুরআনের মর্যাদার পরিপন্থী।
১. মাখারিঝুল হুরুফ (উচ্চারণস্থান)
প্রতিটি আরবি হরফের নির্দিষ্ট উচ্চারণস্থান রয়েছে। মুখের ভেতর পাঁচটি প্রধান স্থান থেকে ২৯টি হরফ উচ্চারিত হয়: জওফ (কণ্ঠর ভেতর), হালক (গলা), লিসান (জিভ), শাফাতান (ঠোঁট) এবং খায়শূম ( নাক)। সঠিক মাখরাজ ছাড়া উচ্চারণ কখনো শুদ্ধ হয় না।
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
আর কুরআন তিলাওয়াত করুন ধীরে ধীরে, স্পষ্টভাবে।
— সুরা মুযযাম্মিল, আয়াত ৪
২. নুন সাকিন ও তানভীনের চারটি নিয়ম
নুন সাকিন (نْ) বা তানভীন (ً ٍ ٌ) এর পরে কোন হরফ আসছে তার ওপর ভিত্তি করে উচ্চারণ ৪ প্রকারে বিভক্ত:
৩. মীম সাকিনের তিনটি নিয়ম
মীম সাকিনের পরে যে হরফ আসে তার ওপর নির্ভর করে তিনটি নিয়ম প্রযোজ্য হয়। ইখফা শাফাভি (ب এর আগে), ইদগাম শাফাভি (م এর আগে) এবং ইজহার শাফাভি (বাকি সব হরফের আগে)। এই তিনটি নিয়ম সঠিকভাবে আয়ত্ত করলে তিলাওয়াত অনেক সুন্দর হয়।
৪. মদ্দের প্রকারভেদ
মাদ হলো হরফকে টেনে পড়ার নিয়ম। মদে আসলি (স্বাভাবিক মদ) দুই আলিফ পরিমাণ টানা হয়। মদে ফারয়ী বিভিন্ন কারণে চার, পাঁচ বা ছয় আলিফ পর্যন্ত টানা যায়।
৫. গুন্নাহর বিধান
গুন্নাহ হলো নাক দিয়ে সুর করে পড়া। নুন ও মীম মুশদ্দাদে সর্বদা দুই হরকত পরিমাণ গুন্নাহ করতে হয়। ইখফা ও ইদগামেও গুন্নাহ বিদ্যমান।
মনে রাখুন: তাজবীদ শেখার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি শেখা। কিতাব পড়ে সম্পূর্ণ তাজবীদ আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।
৬. ওয়াকফ ও ইততিদা
কোথায় থামতে হবে এবং কোথা থেকে শুরু করতে হবে তা জানাও তাজবীদের অংশ। ওয়াকফে তাম, ওয়াকফে কাফি, ওয়াকফে হাসান এবং ওয়াকফে কাবিহ — এই চার প্রকার ওয়াকফ সম্পর্কে জানা জরুরি।
পরিশেষে
তাজবীদ শেখা একটি ক্রমাগত অনুশীলনের বিষয়। ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে প্রতিদিন অনুশীলন করলে অবশ্যই সফলতা আসবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার তৌফিক দান করুন।
উস্তাদ রফিকুল ইসলাম
তাজবীদ ও কুরআন বিজ্ঞান ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক। মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি গ্রাজুয়েট।